হোম বর্ধমানের ইতিকথাবর্ধমান রাজবাড়ী বর্ধমান রাজবাড়ির ঐতিহাসিক ঘড়ি

বর্ধমান রাজবাড়ির ঐতিহাসিক ঘড়ি

প্রকাশক ক্রমবর্ধমান

বর্ধমানের “আঞ্জুমান ভবন” এর এই ছবিটি তুলেছেন অরিজিৎ ধর মহাশয়। অরিজিৎ ধর মহাশয়ের ক্যামেরার জাদুতে বর্ধমানের এই ঐতিহাসিক ঘড়ি হয়ে উঠেছে আরো দৃষ্টিনন্দন। আপনারাও যদি আপনাদের তোলা বর্ধমানের সুন্দর ছবি পাঠাতে চান তবে আমাদের ইমেইলে আপনার নাম আর ছবির বর্ণনা দিয়ে পাঠিয়ে দিন ।

বর্ধমান রাজবাড়ির ঐতিহাসিক ঘড়ি
ছবি : অরিজিৎ ধর

আঞ্জুমান ভবন বর্ধমান রাজাদের প্রধান কার্যালয় ছিল। এটির নির্মান শুরু করেন মহাতাব চাঁদের পূর্বপুরুষরা এবং শেষ করেন বিজয়চাঁদের পিতা বনবিহারী কাপুর। ১৮৯৪ খ্রীস্টাব্দে এই কাছারী ভবনের নির্মান কাজ শেষ হয়। বিভিন্ন রাজার সময়কালে এই কাছারী ভবন বিভিন্ন সরকারী দফতর হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। উদয়চাঁদ মহিলা কলেজের কাছেই এই আঞ্জুমান কাছারী ভবন অবস্থিত। এই কাছারী ভবনের উপরেই বিখ্যাত ‘বেনসন ক্লক টাওয়ার’ আছে। ভবনের ছাদে ৪৮ ফুটের স্তম্ভ তৈরি করে চতুর্মুখী ঘড়িটি বসানো হয়। ১৮৯৩ সালে লন্ডনের জে ডব্লু বেনসন ওই ঘড়িটি তৈরি করেন।

ইতিহাসবিদ ও গবেষকদের ধারণা, ঘড়ি তৈরির পরের বছর অর্থাৎ ১৮৯৪ সালে ঘড়িটি বসানো হয়েছিল। সেই সময় বর্ধমানের রাজা ছিলেন বিজয়চাঁদ মহাতাব। তখন কার্জন গেট থেকে সরাসরি ঘড়িটি দেখা যেত। ওই ঘড়ির সরলরেখায় ছিল কার্জন গেট। সেই সময় রাজবাড়ি শহরের কেন্দ্রস্থলে হওয়ায় এবং ঘড়িটি চতুর্মুখী হওয়ায় শহর ছাড়িয়েও সময় দেখা যেত। ৪ ফুট ৬ ইঞ্চি ব্যাসের ঘড়িটির বড় কাঁটাটি দু’ফুট ও ছোট কাঁটাটি দেড় ফুটের। দম দেওয়া ঘড়িটি কপিকল পদ্ধতিতে চলে বলেও বিশেষজ্ঞেরা জানিয়েছেন। এ ছাড়া রাতেও যাতে ঘড়ি দেখে সময় বোঝা যায় তার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা ছিল, আবার বজ্রপাত ও জল থেকে ঘড়িটিকে রক্ষা করার জন্যও ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ১৯২০ সালে ঘড়িটি প্রথম স্তব্ধ হয়ে যায়। তারপর ১৯৫০ থেকে ২০০৪ পর্যন্ত আরও বেশ কয়েকবার খারাপ হয়ে যায় ঘড়িটি। ২০০৪ সালে বর্ধমান পুরসভা ঘড়িটি সংস্কার করে। গত এপ্রিল-মে মাসে পরপর যে কয়েকবার ভূমিকম্প হয়, তারপর থেকে ঘড়ির কাঁটা সম্পূর্ণ থেমে গিয়েছে। তিনমাস আগে ঘড়িটি সারানো হয়েছে ও বর্তমানে ঠিক সময় দেখাচ্ছে ।

□  উপস্থাপন : দিব্যসুন্দর কুন্ডু
□  ছবি : অরিজিৎ ধর
□   তথ্য: আলোকচিত্রে বর্ধমানের ঐতিহ্য- অশোক দাশগুপ্ত, আনন্দবাজার পত্রিকা
□   ইমেইল : [email protected]
 □  https://www.facebook.com/Kramabardhaman/
0 কমেন্ট
0

Related Articles

কমেন্ট করুন