হোম বর্ধমানের ইতিকথাবর্ধমান রাজবাড়ী বর্ধমানের রাজবাড়ি মহাতাব মঞ্জিলের কয়েকটি দুষ্প্রাপ্য ছবি

বর্ধমানের রাজবাড়ি মহাতাব মঞ্জিলের কয়েকটি দুষ্প্রাপ্য ছবি

প্রকাশক ক্রমবর্ধমান
১৯০৪ সালে তোলা বর্ধমানের রাজবাড়ি “মহাতাব মঞ্জিল” এর ছবি
Photo Source: British Library (bl.uk)

বর্ধমানের রাজবাড়ি “মহাতাব মঞ্জিল” এর এই ছবিগুলি তোলা হয়েছিল ১৯০৪ সালে বর্ধমানের মহারাজ বিজয়চাঁদের উদ্যোগে । রাজবাড়ির ইতিহাস গবেষক নীরদবরণ সরকার বলেন, “কাঞ্চননগরে থাকাকালীনই মহাতাব চাঁদ বর্ধমানের কেন্দ্রীয়স্থলে বাড়ি তৈরির চিন্তাভাবনা করেন। সেই ভাবনা থেকেই ১৮৪০ সালে ওই বাড়ি তৈরি করান। পরবর্তীতে তাঁর নামেই উত্তরসূরীরা বাড়ির নাম রাখেন।” এই দুষ্প্রাপ্য ফটোগ্রাফগুলি মহারাজ বিজয় চাঁদ তত্‍কালীন বাংলার ভাইসরয় লর্ড কার্জনকে ২ এপ্রিল ১৯০৪ সালে বর্ধমান সফরকালীন উপহার দেন। ইউরোপিয়ান শৈলীতে নির্মিত এই বিলাসবহুল রাজপ্রাসাদ অলংকৃত হয়েছে বহু নামজাদা ব্রিটিশ শিল্পীর অমূল্য তৈলচিত্র দিয়ে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন টমাস ও উইলিয়াম ড্যানিয়েলস(Thomas and William Daniells), জর্জ চেনারি(George Chinnery) ও টিলি কেটল(Tilly Kettle)। ১৭৭ বছরের পুরনো রাজবাড়িটি বর্তমানে বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় রূপে পরিচিত।

১৯০৪ সালে তোলা বর্ধমানের রাজবাড়ি “মহাতাব মঞ্জিল” এর উত্তর দিকের ছবি
Photo Source: British Library (bl.uk)

জানা যায়, ১৯৫৪ সালে জমিদারি প্রথা উচ্ছেদের পরে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বিধানচন্দ্র রায়ের অনুরোধে মহারাজা উদয় চাঁদ ইতালীয় স্থাপত্যের অনুকরণে তৈরি রাজবাড়িটি সরকারের হাতে তুলে দিতে রাজি হন। বর্ধমানের সম্পত্তির মোট ৩২৩ একর সরকারের হাতে তুলেও দেন মহারাজা। সেখানেই ১৯৬০ সালের ১৫ জানুয়ারি বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পথ চলা শুরু। ২০১৩ সালের ২৯শে এপ্রিল রাজ্য হেরিটেজ কমিশন ‘মহাতাব মঞ্জিল’কে ‘ঐতিহ্যবাহী বাড়ি’ ঘোষণা করে।

১৯০৪ সালে তোলা বর্ধমানের রাজবাড়ি “মহাতাব মঞ্জিল” এর দক্ষিন দিকের ছবি
Photo Source: British Library (bl.uk)

জেলার হেরিটেজ কমিটির অন্যতম সদস্য সর্বজিৎ যশের দাবি, “রাজ্য হেরিটেজ কমিশন ওই বাড়িটিকে ঐতিহ্যবাহী ভবন ঘোষণা করার পরেই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ মহাতাব মঞ্জিল ছেড়ে নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেন।” উপাচার্য জানান, খড়্গপুরের আইআইটির বিশেষজ্ঞরা মহাতাব মঞ্জিল ঘুরে দেখে গিয়েছেন। তাঁরাই এই ঐতিহ্যবাহী বাড়িটিকে সংস্কার ও সংরক্ষণের ব্যবস্থা করবে বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। উপাচার্য স্মৃতিকুমার সরকার বলেন, “রাজবাটিতে বিশ্বমানের মিউজিয়াম গড়ে তোলা হবে। বিভিন্ন পুরাকীর্তি থেকে প্রাচীন ছবি, স্থানীয় লোক-সংস্কৃতি তুলে ধরে হবে, যাতে পর্যটকদের অন্যতম গন্তব্যস্থল হয়ে ওঠে রাজবাটি।”

প্রতিবেদন : দিব্যসুন্দর কুন্ডু
সুত্র: নীরদবরণ সরকার, ব্রিটিস লাইব্রেরী, বর্ধমান জেলা অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ
Photo Source: British Library (bl.uk)
0 কমেন্ট
0

Related Articles

কমেন্ট করুন