হোম বর্ধমানের ইতিকথাবর্ধমান রাজবাড়ী ভুলে যাওয়া লর্ড কার্জনের শ্বেত পাথরের মূর্তি

ভুলে যাওয়া লর্ড কার্জনের শ্বেত পাথরের মূর্তি

প্রকাশক ক্রমবর্ধমান
লর্ড কার্জনের শ্বেত পাথরের মূর্তি

বর্ধমান শহরের প্রবেশদ্বার বলা হয় কার্জন গেট বা বিজয় তোরণকে। বাংলার ভাইসরয় লর্ড কার্জন ২ এপ্রিল ১৯০৪ খ্রীস্টাব্দে বর্ধমানে এসেছিলেন বর্ধমানের মহারাজ বিজয় চাঁদ মহাতাবকে “রাজাধিরাজ” উপাধি দিতে । মহারাজা বিজয় চাঁদ মহাতাব এই রাজকীয় তোরণদ্বার তৈরি করেন লর্ড কার্জনের সম্মানার্থে যার বর্তমান নাম বিজয় তোরণ। আগে এই গেটের নাম ছিল “ স্টার অফ ইন্ডিয়া “’। লর্ড কার্জনের নামে এটি “কার্জন গেট” বলে বর্ধমানবাসীদের কাছে প্রসিদ্ধ হয়। পরে এইটি স্রস্টার নাম অনুসারে নাম হয় “বিজয় তোরণ”। এই তথ্য অজানা এমন লোক মনে হয় বর্ধমান জেলায় খুঁজে পাওয়া দুস্কর । কিন্তু আরো একটি তথ্য আছে যা খুব বেশি মানুষের গোচরে নেই । আজ ক্রমবর্ধমানের পাতায় সেটি নিয়ে একটু আলোচনা করা যাক ।
“বিজয় তোরণ” নির্মানের পাশাপাশি আরো একটি নির্মান মহারাজ বিজয় চাঁদ লর্ড কার্জনের সম্মানার্থে করেছিলেন। সেটি হলো, সাত ফুট লম্বা শ্বেত পাথরের লর্ড কার্জনের মূর্তি । সামরিক পোশাক পরিহিত বড় লাট লর্ড কার্জনের অপূর্ব সুন্দর মূর্তিটি জহুরী পট্টি অঞ্চলে ভূমি ও ভূমি সংস্কার কার্যালয়ের সামনে স্থাপন করেছিলেন । একটি বেদির উপর স্থাপিত মূর্তির চার দিক দিয়ে মোটা লোহার শিকল দিয়ে ঘেরা ছিল । দেখার মত শিল্পকলা ছিল এই লর্ড কার্জনের শ্বেতপাথরের মূর্তি । শোনা যায় লর্ড কার্জনের স্ত্রী লেডি কার্জনও মূর্তিটি দেখে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছিলেন ।
কিন্তু মূর্তির কপালে সুখ বেশিদিন সইলো না । ১৯৫৪ সালে জমিদারী প্রথা বিলোপের পরে মহারাজ উদয়চাঁদ বর্ধমান ছেড়ে পাকাপাকিভাবে চলে গেলেন কলকাতার আলিপুরের বিজয় মঞ্জিলে । এরপর ১৯৬৭ সালে ক্ষমতায় এলো প্রথম যুক্তফ্রন্ট সরকার । সারা রাজ্য জুড়ে তখন ব্রিটিশ স্মৃতি বিলোপের তীব্র হওয়া চলছে । বর্ধমানেও সরিয়ে ফেলা হলো লর্ড কার্জনের মূর্তি । মূর্তিটি রাখা হয় পি ডাব্লউ ডির বাগান বাড়িতে । কিন্তু সেখানে পিচের ড্রামের পাশে রাখার ফলে মূর্তির গায়ে লাগে পিচ । সেখান থেকে স্থানান্তরিত করা হয় পি ডাব্লউ ডির গোডাউনে । প্রায় দশ বছর সেখানে অনাদরে পরে থেকে ভেঙ্গে যায় মূর্তির নাক ও ডান পায়ের জুতোর কিছু অংশ। সাড়া গায়ে অজস্র ক্ষত নিয়ে পড়ে থাকলো লর্ড কার্জনের মূর্তি যিনি কিনা ঐতিহাসিক ও পুরাতাত্ত্বিক নিদর্শনগুলির সংরক্ষণের জন্য সর্বপ্রথম এগিয়ে এসেছিলেন , প্রণয়ন করেছিলেন আইন।

বর্তমানে মূর্তিটি কিছুটা সংস্কার করে রাখা হয়েছে বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের মিউজিয়ামে । কিছুটা হলেও স্বস্তি পেলেন ঐতিহাসিক ও পুরাতাত্ত্বিক নিদর্শনগুলির সংরক্ষণের কান্ডারী লর্ড কার্জন । কিন্তু মূর্তির ভাঙ্গা নাকটি দেখলে আপনার মন ভারাক্রান্ত হতে বাধ্য । আঞ্জুমান কাছারীর সামনের বেদিটা আজও পরে আছে ফাঁকা , নিঃসঙ্গ ও কার্জনহীন হয়ে ।

□ কিভাবে যাবেন বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের মিউজিয়াম?

বর্ধমান স্টেশন বা বাস স্ট্যান্ড থেকে টোটো বা রিক্সা নিয়ে চলে আসুন বর্ধমান ইউনিভার্সিটির অফিস রাজবাটি “মহাতাব মঞ্জিল” । এখানেই আছে মিউজিয়াম । ছুটির দিন ছাড়া রোজ ১১ টা থেকে ১ টা ও 2 টা থেকে ৪ টা পর্যন্ত মিউজিয়াম খোলা থাকে ।

□ প্রতিবেদন : দিব্যসুন্দর কুণ্ডু
□ ছবি : প্রয়াত অশোক দাশগুপ্ত
□ তথ্যসূত্র : অশোক দাশগুপ্তর "আলোকচিত্রে বর্ধমানের ঐতিহ্য", নীরদবরণ সরকার, সর্বজিৎ যশ, রানা সেনগুপ্ত ও বিবিধ তথ্যসুত্র।
□ কৃতজ্ঞতা : ঋতুপর্ণা গাঙ্গুলী ব্যানার্জী
□ লেখা ও ছবি পাঠানোর ঠিকানা :
□ ইমেইল : [email protected]
1 কমেন্ট
3

Related Articles

1 কমেন্ট

Rituparna Ganguly December 22, 2019 - 7:44 pm

খুবই সুন্দর ও তথ্যবহুল পোস্ট

উত্তর

কমেন্ট করুন